ছোটবেলায় প্রিয় ছিলেন সাঈদ আনোয়ার
নিজে খেলতে শুরু করার আগে পাকিস্তানের সমর্থক ছিলাম
আর পাকিস্তানের সেরা ব্যাটসম্যান তখন তিনি
এ জন্যই প্রিয়
তবে শুধু এটুকু বলা ঠিক হবে না
সাঈদ আনোয়ারের যে স্টাইল যেমন যোগ্যতা তাতে তিনি যে দলেরই খেলোয়াড় হতেন না কেন হয়তো পছন্দ করতাম
দেখা হয়নি
সুযোগই হয়নি
আমরা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আসার আগেই উনি খেলা ছেড়ে দিয়েছেন
এখন তো ক্রিকেটের সঙ্গে কোনো সম্পর্কই রাখেন না
ধর্মজীবন নিয়ে আছেন
তাই দেখা করার সুযোগ হয়নি
ইচ্ছে সাঈদ আনোয়ার এখন যে জীবন যাপন করেন তাঁকে ক্রিকেট নিয়ে কিছু জিজ্ঞেস করে বিরক্ত করা হয়তো ঠিক হবে না
আমার সে আগ্রহও খুব একটা নেই
হয়তো দেখা হলে মানুষটা কেমন তাঁর জীবন-দর্শনটা কী—এসব জানতে চাইব

আবেগজুড়ে তিনি
আবদুর রাজ্জাক
প্রিয় সাঈদ আনোয়ার
যেভাবে প্রিয় ছোটবেলায় কিছু না বুঝেই পাকিস্তান ক্রিকেট দলের সমর্থন করতাম
সেই দলে দেখতাম একজন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান বোলারদের নিয়ে যা খুশি করছেন
আমি সেই ব্যাটসম্যানের ভক্ত হয়ে গেলাম
যত বুঝতে শিখেছি তত সাঈদ আনোয়ারের প্রতি আকর্ষণ বেড়েছে
আমি যখন বিকেএসপির ছাত্র তখন একটা সময় আনোয়ারের ফিফটির চেয়ে সেঞ্চুরি বেশি ছিল
ওই বয়সে এমন পরিসংখ্যান আমাকে তাঁর অন্ধ সমর্থক বানিয়ে দিয়েছিল
যুক্তি-বুদ্ধি বলে ব্রায়ান লারার মতো ক্রিকেটার হয় না
কিন্তু আবেগ আনোয়ারের পক্ষে!
প্রথম দেখা ২০০৮ সালের এশিয়া কাপের পর একটা পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি এসেছিলেন
লাহোরে আমাদের ড্রেসিংরুমেও এসেছিলেন
এখন তো আর ক্রিকেট নিয়ে কথা বলতে তেমন পছন্দ করেন না
ধর্মের ব্যাপারেই কথা বলেন
তার পরও আমাদের খোঁজখবর নিয়েছিলেন
কথায় মনে হলো আমার দু-একটা ম্যাচও দেখেছেন
ইচ্ছে করে মাঝে মাঝে পত্রিকায় দেখি বাংলাদেশে আসেন
বিশ্ব ইজতেমায় নাকি নিয়মিতই আসেন
ওনার আসার খবর পেলে ইচ্ছে হয় গিয়ে দেখা করি
তখন নিজেকে সেই ছোট্ট ভক্তই মনে হয়
কিন্তু ইচ্ছেপূরণ হয়ে ওঠেনি

লারা একজনই হয়
শাহরিয়ার নাফীস
প্রিয় ব্রায়ান লারা
যেভাবে প্রিয় আমি আসলে বুঝতে শেখার পর থেকেই বাসায় খেলা দেখার একটা পরিবেশ পেয়েছি
তখন সময়টা ওয়েস্ট ইন্ডিজের ছিল
১৯৯২ বিশ্বকাপেই সম্ভবত ব্রায়ান লারাকে প্রথম ভালো লেগে যায়
এরপর একটু একটু করে বড় হয়েছি আর লারার প্রতি আমার ভক্তি বেড়েছে
তাঁর ব্যাটিংয়ের মধ্যে যে একটা আভিজাত্য ছিল সেটা আমি আর কারও মধ্যে দেখিনি
প্রথম দেখা ১৯৯৮ সালে বাংলাদেশে যখন মিনি বিশ্বকাপ হলো তখন প্রথম কাছ থেকে দেখলাম লারাকে
তখন আমি নিতান্তই ছোট মানুষ
কাছে গিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলার তো প্রশ্নই আসে না
দূর থেকে গ্যালারিতে বসে লারাকে দেখেছি
পরে যেমন ২০০৭ বিশ্বকাপে তাঁর সঙ্গে আমার দেখা হয়েছিল
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচটায় আমি দলে ছিলাম না
তবে ওঁর সঙ্গে টুকটাক কথা হয়েছিল
এর পরও দেখা হলে ও রকম ক্রিকেটের বাইরের বিষয় নিয়ে কথা বলতে চাইব
তিনি কীভাবে ৪০০ রান করেছেন কীভাবে রেকর্ডের পর রেকর্ড করেছেন সেসব রহস্য জানতে চাই না
আচ্ছা বলুন তো উনি রহস্যটা ফাঁস করে দিলেই কি কারও পক্ষে লারা হওয়া সম্ভব লারা এই দুনিয়ায় একজনই হয়

লারার পক্ষে লড়াই করি
জহুরুল ইসলাম
প্রিয় ব্রায়ান লারা
যেভাবে প্রিয় ১৯৯৬ বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে সেঞ্চুরি করেছিলেন
ওই সেঞ্চুরি দেখেই আমি তাঁর পাগল-ভক্ত হয়ে গেছি
এরপর তো টিভিতে লারার খেলা দেখলেই মনে হয়েছে অন্য রকম সুন্দর কিছু দেখছি
আমার কাছে লারাই সেরা
এই নিয়ে সেই ছোটবেলা থেকে এখন পর্যন্ত বন্ধুদের সঙ্গে অনেক তর্ক-বিতর্ক হয়
আমার বেশির ভাগ বন্ধু শচীন-ভক্ত
ফলে লারা-শচীন নিয়ে খুব ফাইট হয়
প্রথম দেখা প্রথম আর শেষ এখন পর্যন্ত লারাকে আমি একবারই দেখেছি—গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সময়
কথাবার্তা কিছু হয়নি
ইচ্ছে আছে আমার খুব ইচ্ছে লারার সঙ্গে একান্তে কিছু সময় কাটানোর
তাঁর কাছে অনেক কিছু জানতে চাই
সবচেয়ে বেশি জানতে চাই ছক্কা মেরেই আবার টেস্টের বিশ্ব রেকর্ড ভাঙার ব্যাপারটা
তিনি সব সময় বড় বড় মাইলফলকে যেতেন চার-ছয় মেরে
এই কাজটা কেন করতেন কেন এত ঝুঁকি নিতেন সেটা জানতে ইচ্ছে করে
আর খারাপ সময়ে নিজেকে কী বলতেন সেটা জানার ইচ্ছে আছে

চাপকে জয় করা নায়ক
মুশফিকুর রহিম
প্রিয় ব্রায়ান লারা
যেভাবে প্রিয় ভাইয়ারা সবাই ছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের সমর্থক
তাই তাঁদের সঙ্গে বসে ওদের খেলা দেখতাম
সেই ছোটবেলায় টিভিতে দেখতাম ব্রায়ান লারার বিস্ময়কর ব্যাটিং
মনে হয় সে সময়ই আমি তাঁর ভক্ত হয়ে গেছি
তবে বড় হয়ে লারার খেলার ধরন মানসিকতা স্টাইল দেখেই মূলত বেশি ভক্ত হয়েছি
প্রতিপক্ষ অধিনায়কের ফিল্ডার-প্লেসমেন্টকে চ্যালেঞ্জ করে উড়িয়ে দিতেন তিনি
প্রথম দেখা ২০০৭ বিশ্বকাপে
দ্বিতীয় রাউন্ডে আমাদের বিপক্ষে ম্যাচটাই তাঁর শেষ ওয়ানডে ছিল
আমি আর রফিক ভাই তাঁর কাছে সময় চেয়েছিলাম
উনি হোটেল রুমে যেতে বলেছিলেন
অনেক কথা হলো
আমি মূলত ওনার চাপ নেওয়ার বিস্ময়কর ক্ষমতাটা নিয়ে জানতে চেয়েছিলাম
ওয়েস্ট ইন্ডিজে তো দিনের পর দিন একাই ভরসা হয়ে খেলতে হয়েছে তাঁকে
এটা কীভাবে করেছেন জানতে চেয়েছিলাম
আরও কিছু ব্যাটিং টিপস দিয়েছিলেন
ভারতের বিপক্ষে ওই বিশ্বকাপে আমার ইনিংসটা দেখেছিলেন
সেটা নিয়ে কথা বলেছিলেন
ইচ্ছে আছে আবার যদি দেখা হয় ওনার কাছে বড় ইনিংস খেলার কৌশল নিয়ে হয়তো কিছু জানতে চাইব

ওয়াসিম-যুগের দর্শক আমি
